স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষা’ বিষয়ে প্রজনন স্বাস্থ্য নামে অধ্যায় রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, ‘জীবন ও জীবিকা’ বিষয়টি হবে পেশাভিত্তিক। নবম ও দশম শ্রেণিতে এ বিষয়ে বাধ্যতামূলকভাবে প্রত্যেক শিক্ষার্থী কৃষি, সেবা বা শিল্প খাতে দক্ষতা অর্জন করবে। এতে দশম শ্রেণি শেষে একজন শিক্ষার্থী যেকোনো একটি পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারবে। জাতীয় শিক্ষাক্রম-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন কারিকুলামে সব শ্রেণিতে জোর দেওয়া হবে শিখন পদ্ধতির ওপর। বর্তমান পাঠ্যক্রমে আমাদের একটি বিষয় আছে, যার নাম ‘চারুকলা’। নতুন শিক্ষাক্রমে এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘শিল্প ও সংস্কৃতি’। আগে এ বিষয়ে শুধু চারুকলাকে ফোকাস করা হতো, এখন চারুকলার পাশাপাশি নৃত্যকলা, নাট্যকলা, সংগীত ইত্যাদি বিষয় থেকে শিক্ষার্থী জানতে পারবে। বিষয়টি প্রাথমিকে থাকবে শিল্পকলা নামে এবং মাধ্যমিকে শিল্প ও সংস্কৃতি নামে। অন্যদিকে ‘শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষা’ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্য সম্পর্কিত মৌলিক বিষয়ের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গেও পরিচিত হতে পারবে।
বর্তমান শিক্ষাক্রমে আমাদের আইসিটি নামে একটি বিষয় আছে। এ বিষয়টির ব্যাপ্তি বাড়িয়ে এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘ডিজিটাল প্রযুক্তি’। এর ফলে শিক্ষার্থীরা আইসিটির প্রাথমিক জ্ঞান আহরণ করার পাশাপাশি ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের সতর্কতা, অনলাইন ক্রাইম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নিয়মকানুন ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে পারবে। দেশে বর্তমানে কো-কারিকুলাম খুবই অবহেলিত। ফলে, বর্তমান শিক্ষায় শিক্ষিতরা এক ধরনের স্বার্থপর হয়ে বেড়ে উঠছে। শিক্ষা যেখানে মানুষের মধ্যে দায়বোধ শেখায়, সেখানে বর্তমান শিক্ষা আমাদের উল্টো পথে হাঁটতে শেখাচ্ছে। দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, সমসাময়িক প্রযুক্তি, জ্ঞান-বিজ্ঞান, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর অধিক গুরুত্ব দিয়ে ২০২৩ সালের শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। যার ওপর ভর করে আমরা বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব। তবে তা নির্ভর করবে ইতিবাচক মানসিকতা, নৈতিকতা এবং সততার ওপর। পানি ছাড়া যেমন মাছ বাঁচতে পারে না, তেমনি শিক্ষক ছাড়াও শিক্ষার্থী আলোকিত হতে পারে না। শিক্ষকদের সম্মানজনক বেতন-ভাতাসহ সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে জবাবদিহির মধ্যে নিয়ে আসতে পারলেই কারিকুলাম সফল করা সহজ হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অভিভাবকদের শতভাগ আন্তরিক হতে হবে।
লেখক : শিক্ষক, বংশাল, ঢাকা

0 মন্তব্যসমূহ