আমি দাঁড়িয়ে আছি ট্রেনে। ট্রেনের নাম মহুয়া৷ এটি একটি মেইল ট্রেন। সেকারণেই ভীড়৷ গাদাগাদি করে ট্রেন বোঝাই হয়ে আছে। তিল ধারণের ঠাঁই আছে৷ কিন্তু মানুষ ধারণ করা কঠিন। কঠিন কাজটি আরো কঠিন হচ্ছে। অসম্ভবের মত মানুষ উঠা শুরু করিল।

হৈ হুল্লোড় হচ্ছে বগিতে। 

মানুষের সাধারণ কথা হচ্ছে " সামনে চাপেন। জায়গা আছে"। 

কিন্তু কেও স্বেচ্ছায় সামনে যাচ্ছে না বা পারছে না। 

আমি এখন গফরগাঁও। অতিশীপর বৃদ্ধ এক লোক চেচাচ্ছেন। " মানিক, ওই মানিক, মানিক রে..."

হেসে ঊঠলাম। আমার পাশের তরুনী বয়সী এক নারী। নীল স্কার্ফ সে পড়েছে। সে আমাকে বলল, "ওই হাসো কেন? মানুষের বিপদে মানুষ হাসে!"

বুঝলাম লোকটির মুদ্রাদোষ নয়, তাঁর পায়ে ব্যথা। আমি নিজ দায়িত্বে তাকে সন্তর্পনে নামতে সাহায্য করলাম।

এক ভদ্রমহলা পুরু ব্যাপার দেখে আহ্লাদিত হলো। 

"বাবা, তুমি ময়মনসিংহ যাবে, সিটে বসে যাও৷" বলছেন তিনি। 

আমি সিটে বসিনি।অনেক মানুষ এখানে নামে। ট্রেন খালি হলো প্রায়৷ 


১নং সিটের পাশে আমি দাঁড়িয়েছি। চাইলে এখানে একটা সিটে আমি বসতে পারি। কিন্তু দুজন বৃদ্ধ মহিলা এখানে বসে আছে।


ট্রেন চলছে। খোলা আকাশের নিচে একটি চলন্ত রেলগাড়ী। নীল আর সবুজের মিশেল রঙের একটি বহুচাক্রিক যান। যার আশে পাশে বেশ কিছু লোহার কম্পার্টমেন্ট। প্রতিটি কম্পার্টমেন্ট যুক্ত আছে লৌহ বন্ধন দ্বারা।

প্রথম কম্পার্টমেন্টটি আকারে বড় ও লোহালক্কর ভর্তি একটি স্থান, যাকে ইঞ্জিন বলা হচ্ছে। ইঞ্জিন, সমগ্র গাড়িটি টানছে। পাওয়ার সাপ্লাই সচল রাখতে ঝ বগিটিতে পাওয়ার কার করা হয়েছে। 

ইঞ্জিনের দায়িত্বে আছেন দুজন  ড্রাইভার ও লোকোমাস্টার। 

এই পদে আবেদন করেছিলাম বছর দুয়েক আগে। অতি মূল্যবান পদ। ১২লক্ষ টাকা ঘুষ ছাড়া এই চাকরী হয় না। আইন্সটাইনের ও ১২ লক্ষ টাকা না দিলে হবে না।


টেন ঝক্কর ঝক্কর করে এগিয়ে চলেছে। অপেক্ষাকৃত ধীরে। আমি সিটে বসেছি। ঘুম ঘুম একটা ভাব চলে এসেছে। 


আমি বসেছি নির্দয়ভাবে। আমার সামনে একজন মহিলা দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি কাল বোরকা পরেছেন। সাথে আছে তার একটি ছোট্র শিশু।  দুজনেই দাঁড়িয়ে আছে। ছেলেটির কপালে একটা ছোট দাগ। সে পড়ে আছে টি শার্ট।  তআতে লিখা, New Style. 

New Style নামে যত স্টাইল আছে সবই পাগলদের ভঙ্গীর বাস্তবায়ন!

 আমি কাওকে বসতে বলছি না। 

মহিলা বলছে, আমার পা ব্যথা করছে। আমার ভাবান্তর হলো না। 

গাড়ি চলছে। আর অল্প পথ বাকী। 

আমি নামব। যে শহরটি জেলা শহর থেকে এখন বিভাগীয় শহর হয়েছে, সেই শহরে থেমে যাবে ট্রেন।


জীবন আর ট্রেনের মাঝে কী কোন মিল আছে? 

জীবনের এই মহাযান, কোথায় নিয়ে চলেছে আমাদেরকে?